বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বিপদে হামিদুল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হামিদুল ইসলাম। দিনমজুরি করে পড়াশোনা চালিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাতালিকায় স্থান পান হামিদুল। নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৫ দিনের মধ্যে ওই ঋণ পরিশোধের কথা থাকলেও হামিদুল এখন তা পরিশোধ করতে পারছেন না। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক খরচও চালাতে পারছেন না।
হামিদুলের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শাহ্পাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা নুর ইসলাম অসুস্থ হয়ে অনেকটা শয্যাশায়ী। মা হামিজা বেগমও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে হামিদুল চতুর্থ। অর্থের অভাবে বোনেরা এসএসসির গণ্ডি পেরোতে পারেননি। তাঁদের বিয়ে হয়েছে। সম্পদ বলতে তাঁদের বসতভিটার ১৫ শতক জমি। একটি মাটির ঘর ছাড়া আর কিছু নেই তাঁদের।
হামিদুলের বাবা নুর ইসলাম দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত পাঁচ বছর ধরে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। হামিদুল দিনমজুরি করে নিজের পড়াশোনাসহ সংসারের খরচ চালাতেন। তিনি এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১৭৬৬তম স্থান পান। পরে তিনি এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ধার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যে ভর্তি হন।
হামিদুল বলেন, ভর্তির টাকার জন্য স্থানীয় দুই জনপ্রতিনিধির কাছে সাহায্যের জন্য অনেকবার ধরনা দিয়েছেন। তাঁরা টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত দেননি। ভর্তির সময় ঘনিয়ে আসায় উপায় না পেয়ে এক আত্মীয়ের কাছ থেকে তিনি ১৫ হাজার টাকা ধার নেন। ১৫ দিনের মধ্যে তিনি ওই অর্থ পরিশোধ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ওই আত্মীয় এখন টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। হামিদুল বলেন, ‘কোনোভাবেই টাকা জোগাড় করতে পারছি না। লেখাপড়াও চালাতে পারছি না। এলাকায় দিনমজুরির কাজ করে পড়াশোনার খরচ চালাতাম, নিজেও চলতাম। কিন্তু ঢাকায় গিয়ে তো হঠাৎ কাজ পাব না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এখন মহাবিপদে পড়েছি।’
হামিদুল বদরগঞ্জ কলেজিয়েট হাইস্কুল থেকে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৪.৩৯ এবং পার্বতীপুরের খোলাহাটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে ৪.৪২ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খুব কষ্ট করে পড়েছি। স্কুল-কলেজ ফেলে মানুষের বাড়িতে দিনমজুরির কাজ করতাম। তাই পরীক্ষায় খুব একটা ভালো ফল করতে পারিনি। সুযোগ পেলে ভালো কিছু করে দেখাতে পারব।’
হামিদুলের মা হামিজা বেগম বলেন, ‘ছইলটা (হামিদুল) মাইনসের বাড়িত কামও করচে, পড়চেও। ঢাকাত ভত্তি হইচে। এক টাকাও দিবার পারি নাই। কচনু হামরা গরিব মানুষ ভত্তিটত্তি হবার দরকার নাই। তাও একজোনকার গোড়োত ১৫ হাজার টাকা করোজ (হাওলাদ) নিয়া ভত্তি হইচে। তায় পেত্যেক দিন টাকার জন্যে এ্যালা বাড়িত আইসোচে। ছইলটা দাপে বেড়াওচে টাকার জন্যে। কিন্তু কাঁয়ো টাকা দিবার চাওচে না।’
হামিদুলকে কেউ সাহায্য করতে চাইলে তাঁর বিকাশ নম্বরে (০১৯৯৪৪৬৮২৫২) অর্থ পাঠাতে পারেন।

No comments

Theme images by TommyIX. Powered by Blogger.