ঢাবি ক্যাম্পাসে অধিভুক্ত ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের ছড়াছড়ি, বেকায়দায় ঢাবি শিক্ষার্থীরা!
-‘আংকেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’
-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তো, কিন্তু কোন কলেজ।
-আংকেল, কোন কলেজে না, বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
-ধুর বেটা, জয়নালের (প্রতীকী নাম) ছেলেও তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিতুমির কলেজ। তা তুমি কোন কলেজ?’
এরকম বিড়ম্বনার ঘটনা এখন অহরহ! প্রায়ই এর চেয়েও মারাত্মক বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে প্র্যাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। অভিযোগ বহু শিক্ষার্থীর। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে রীতিমত সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা শহরের সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করায় এসব কলেজের শিক্ষার্থীরাও নিজেদেরকে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। ফলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শিক্ষার্থীদেরকে বিড়ম্বনায় পরতে হচ্ছে প্রায়স।
‘অধিভুক্ত কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে উল্লেখ করছে। তাছাড়া, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো অপরাধ করেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি দিতে শুরু করেছে বলে- ইন্ডিপেন্ডেন্ট বাংলাকে জানিয়েছে করেছে বেশ কিছু ঢাবিয়ান। তারা তাদের নিজের ফেসবুক ওয়াল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন গ্রুপে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করছে। তাদের অনেককেই মুখোমুখি হতে হয় ‘তারা ঢাবি’র কোন শাখায় পড়ে’- এমনসব অপমানজনক কিছু প্রশ্নের। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ এবং ‘অপরাজেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামের দুটি গ্রুপে আপলোডকৃত বেশ কিছু শিক্ষার্থীর পোস্ট এবং কমেন্টের স্ক্রিনশট নিচে দেয়া হলোঃ
















উল্লেখ্য, গতবছর সাবেক উপাচার্য ড. আরেফিন সিদ্দিকীর সম্মতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙ্লা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এসব কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৭ হাজার জন।
অধিভুক্ত কলেজের বেশ কিছু শিক্ষার্থীরা নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কিছু সম্পদ যেমন ঃ পরিবহন, ক্যাম্পাস, টিএসসি, গ্রন্থাগারকে নিজেদের বলে ব্যবহার করার দাবিও করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর আমজাদ হোসেন কিছুদিন আগে যদিও ‘অন্তর্ভুক্ত আর অধিভুক্ত ‘ এর মধ্যের পার্থক্যকে তুলে ধরে তাদের বুঝিয়েছেন যে, এসব ব্যবহারের অধিকার তারা (অধিভুক্তরা) রাখেনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা যে, বর্তমান উপাচার্য এই ব্যাপারটাকে বুঝে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে, কষ্টার্জিত গর্বের উপাধি দ্বারা নিজেদের প্রাণের প্রতিষ্ঠানের পরিচয় সংকট নিরসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে- বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।







No comments