‘শিক্ষক আর হতে পারলাম না’




এক সহকারী শিক্ষকের আক্ষেপ



বেতনবৈষম্য কমানোর দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি চলছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর। ছবি: আবদুস সালামপদোন্নতি, বেতন স্কেলে বৈষম্যসহ নানা বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা। লালবাগ শহীদ আনোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বললেন, ‘২৮ বছর ধরে আমি “সহকারী শিক্ষকই” রয়ে গেলাম। “শিক্ষক” আর হতে পারলাম না।’
শিক্ষক দম্পতি মো. সাইফুল ইসলাম ও সালমা আক্তার চাঁদপুর থেকে এসেছেন। সঙ্গে সাত বছরের মেয়ে। গতকাল থেকে শহীদ মিনারেই আছেন। দাবির বিষয়ে ছাড় নেই জানিয়ে সালমা বলেন, মেয়েকে কারও কাছে রেখে আসবেন, সে অবস্থা নেই। তাই পুরো পরিবারেরই আসা।
গতকাল শনিবার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকেরা বেতন স্কেলে বৈষম্য কমাতে আমরণ অনশন করছেন। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশনরত শিক্ষকদের অনেকেই সন্তানসহ এসেছেন।
বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারি শিক্ষক মহাজোটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ করার জন্য তাঁদের এই অনশন। এ শিক্ষকেরা বলছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চলতে থাকবে।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থেকে এসেছেন কোহিনূর আক্তার। তিনি বলেন, ‘সংসার ফেলে এখানে চলে আসছি। দাবি মানতেই হবে। জাতিকে শিক্ষিত করার প্রথম দায়িত্ব নেই আমরা। আর সেই আমরাই বেতনের দিক থেকে সবচেয়ে অবহেলিত।’
বেতন স্কেল নিয়ে সবার মনেই ক্ষোভ। পলিথিন, ত্রিপল বা পত্রিকা বিছিয়ে তাতে বসার কোনো রকম জায়গা বানিয়ে নিয়েছেন। একটু পর পর স্লোগান চলছে। স্যালাইনও দেওয়া হচ্ছে অনেককে। ফরিদপুরের চরকল্যাণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ মনিরুজ্জামান বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৪তম গ্রেডে হয়। আর প্রধান শিক্ষকদের বেতন হয় ১১তম গ্রেডে এবং শিগগিরই তাঁদের ১০তম গ্রেডে উন্নীত করা হবে। কিন্তু এত বৈষম্য তাঁরা মেনে নেবেন না। সহকারী শিক্ষকেরা চাচ্ছেন সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে এক গ্রেডের ব্যবধান হবে।
পিরোজপুর থেকে আসা ওমর ফারুক বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকেরা যে স্কেলে এখন কর্মজীবন শুরু করেন, সহকারী শিক্ষকেরা সেই স্কেলে কর্মজীবন শেষ করেন। কিন্তু আমরা তো কাজ কম করি না।’ 
বাংলাদেশ প্রাথমিক সরকারি শিক্ষক মহাজোটের অন্যতম নেতা নাসরিন সুলতানা বলেন, অনশনের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত তাঁরা কোনো আশ্বাস পাননি। তবে তাঁরা চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁদের দাবির পক্ষে আশ্বাস দেবেন। এ ছাড়া অধিদপ্তর থেকে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে চান।

No comments

Theme images by TommyIX. Powered by Blogger.