সফলতার গল্প ০৭



সেশন: ২০১৭-১৮

গল্প-০৭





.
একজন ছাত্র হিসেবে লেখা পড়া করতাম এই আর কি। কিন্তু যতটুকু পড়াশোনা করা দরকার ছিলো ততো টুকু করতাম না। কিন্তু আসা ছিলো একদিন ভালো কোন বিশ্ব্যবিদ্যালয়তে CSE or EEE নিয়ে পড়া শুনা করবো। জে এস ছি পরিক্ষা দিলাম। স্বাভাবিক ভাবেই বাবা মা আসা করছে আমা ছেলে টা প্লাস পাবে। আমি তো জানি আমার দৌড় কতটুকু। যেই ভাবা সেই কাজ রেজাল্ট দিলো,পেলাম ৪.৫০।
.
আমার বাবা ছিলো খুব রাগি।তিনি আমাকে সেই দিন খুবই বকা দিয়েছিলেন,সাথে আত্মিয় স্বজনদের হাসাহাসি তো ছিলোই।ক্লাস নাইনে এসে বিজ্ঞান বিভাগ নিলাম। 
.
পড়াশোনা ভালই করলাম তার ফল সরুপ এস এস ছি তে আশা অনূরুপ ফলপেলাম, প্লাস।একই ধারাবাহিকতা বজায়ে রাখতেও পেরেছিলাম এইচ এস সি তেও প্লাস পেলাম।বাবা মার এবং আমার খুশি তো ধরে না!!!
.
কিন্তু আমার সামনে এখন ও যে একটা বড় যুদ্ধ ক্ষেত্র আছে সেটা আমার জানা। এই যুদ্ধ ক্ষেত্রে ডবল প্লাস ধারিদের ও হার মান তে হয়!!!!
.
বাবার ইচ্ছা ছিলো ছেলে ডাক্তার হবে ।কিন্তু আমি আমার ইচ্ছার কথা তো আগেই জানিয়েছি তাদের।যাইহোক বাবা মা আমার ইচ্ছাটাকেই বেশি গুরুত্ত দিয়েছিলেন।ভর্তি হলাম উদ্ভাসে, এটাই আমার জীবনের প্রথম বাড়ির বাইরে যাওয়া, "কুয়ার ব্যঙ সাগরে পড়লে যেমন স্বাধীনতা পায় আমার অবস্থাও ঠিক তেমনই"
এইচ এস তি যেমন পড়াশোনা করে ছিলাম, তার৪০% পড়াশোনা ও করা হলো না।শুরু হলো বহুদিনের সেই প্রত্যাশিত ভর্তি পরীক্ষা।
.
প্রথম ভর্তি পরিক্ষা ছিলো ঢাবি, রেজাল্ট ফেইল। কুয়েট,রেজাল্ট ফেইল।চুয়েট, রেজল্ট ফেইল।এক একটা রেজাল্ট যেনো আমার এক একটা আসাকে ভেজ্ঞে দিচ্ছে।বাবা মা তো বিশ্বাসই করতে পারছে না যে তাদের ছেলের এই আবস্থা!!!!! দুইটাতে প্লাস থাকা সতেও চান্স হচ্ছে না!
.
বাসা থেকে বাইরে যাওয়া বন্ধ করলাম,কারন বাইরে বের হলেই মানুষ খুব আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইতো কোথায় কোথায় চান্স হলো??? এই প্রশ্নের উত্তর আমি কি আদও দিতে পারবো??দিন দিন আমার CSE এবং EEE নিয়ে পড়ার সপ্ন যেনো স্বপ্নই থেকে গেলো,আমি কী আদও এই স্বপ্নের বাস্তব রূপান্তর দিতে পারবো ??বাবা মার মুখে দিকে তাকাতে পারছিলাম না।তাদের স্বপ্ন গুলো কে আমি নিজের হাতে গলা টিপে হত্যা করেছি। তাদের আসা আমি পূরন করতে ব্যাথ।আমার বড় বড় স্বপ্ন গুলা চোখের সামনে শেষ হতে দেখছিলাম।
.
এদিকে বাধন ফোন দিয়ে বলে দোস্ত আমার রুয়টএ CSE আসছে,সাব্বির বলে কুয়েট এ স্থাপত্য আসছে।বন্ধুদের সুসংবাদ গুলো আমার কাছে একেকটা আসা ভাংগা এবং স্বপ্নের শেষ মনে হতে লাগলো। কিসের CSE EEE; এখন একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়াটাই বিশাল ব্যপার?
.
এর মাঝে পড়াশুনা করেছি।বাসা পাবনা হওয়ার সুবাদে টেক্সটাইল এর ফর্মটা তোলা ছিলো।চান্স হবে না জেনেও পরিক্ষা টা দিতে গেলাম।কে জানতো এটাই আমার জীবনের ট্রানিং পয়েন্ট? হটাৎ করেই পরিক্ষাটা কেনো জানি ভালো হয়ে গেলো।
.
এতো দিনে বাবা মা ও বড় বড় স্বপ্ন দেখা বাদ দিয়ে দিয়েছে"!!!
.
৪৮৫ তম ঝিনাইদহ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, যাক একটা তো সিরিয়াল আসলো।"নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো"।ভর্তি হলাম টেক্সটাইল এ।নিজের উপর আত্মবিশ্বাসটা একটু বেরে গেলো। কিন্তু মনের মাঝে আছে CSE এবং EEE নিয়ে পড়ার স্বপ্ন। আস্তে আস্তে সবই যেন আমার অনুকূলে আসতে লাগলো।
.
হাবিপ্রবির ভতি পরিক্ষা ৩মাস পিছিয়ে গেলো। মনে মনে খুবই খুসি হয়ে ছিলাম, যাক হাবিপ্রবির ভর্তি পরিক্ষার জন্য পড়ার তো একটু সময় পাবো?ভাগ্য আল্পের জন্য সহায় হলো না।মহান আল্লাহ্‌ তা'লা যা করেন সেটা ভালোর জন্যেই করেন। হাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগে ভতির সুযোগ পেলাম।একটু হাফ ছেড়ে বাচলাম!!!বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রতো হতে পারলাম ?।টেক্সটাইল এর ভতি বাতিল করে আবার ভতি হলাম হাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগে।নিজের আত্মবিস্বাসটা যেনো আরোও বেরে যেতে লাগলো।
.
"কিন্তু আমি য়ে CSE এবং EEE নিয়ে পড়ার স্বপ্ন ছোট থেকেই দেখেছি".........
.
সেই জন্য হাবিপ্রবির স্থাপত্যও আমাকে ছাড়তে হলো।নিজের স্বপ্ন গুলো বাস্তবে রূপান্তরের আসা দেখতে লাগলাম।আমি সেকেন্ড টাইমার হিসেবে সমাজের খাতায় নাম লিখালাম। টেক্সটাইল এবং হাবিপ্রবিতে চান্স পাওয়ার সুবাদে নিজের উপর আত্মবিশ্বাসটা আনেক বেরে গিয়েছিলো। এই বার আর আমাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।যে CSE এবং EEE এর জন্য এতো ত্যগ স্বিকার করলাম, টেক্সটাইল এবং হাবিপ্রবির স্থাপত্য ছারলাম,সেই ত্যাগই আমার স্বপ্নের বাস্তব রুপান্তর দিয়ে দিলো।আবার সেই হাবিপ্রবিতে কিন্তু এইবার স্থাপত্য নয়,এইবার আমাকেই পছন্দ করে নিতে হবে CSE এবং EEE সাবজেক্ট এর মধ্যে যেকনো একটা সাবজেক্ট। 
.
তাহলে কি আমার স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে ? হে স্বপ্ন আসলেই সত্যি হলো।আজ আমি ভর্তি হলাম ভর্তির পরে,কেনো জানি চোখের পানি আপনা আপনিই বের হয়ে আসতে লাগলো, এটা হয়তো আনন্দের কান্না।আজ আমি বলতে পারি আমি আমার স্বপ্ন পূরন করতে সার্থক।এখন আমি আনেক খুশি কারন মহান আল্লাহ তা'আলা আমার ইচ্ছা পূরন করেছেন।
.
© মোঃ ইকবাল মাহমুদ (আলফা)
হাজী মোহাম্মদ দানেস বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

No comments

Theme images by TommyIX. Powered by Blogger.