সফলতার গল্প ০৬
.
সেশন: ২০১৭-১৮
গল্প-০৬
সফলতা একটা আপেক্ষিক বিষয়। জানি না, কতটুক পেয়েছি। তবে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার থেকেই অনেক ইচ্ছা ছিল একদিন এই পেইজে নিজের গল্পটা লিখব। তাই লিখতে বসলাম।
ছোটবেলা থেকে ভাল ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলাম। স্কুল, কলেজ দুই জায়গায়ই খুব ভাল রেজাল্ট করতাম। কলেজ লাইফ থেকে বন্ধুরা ডাক্তার ডাক্তার বলে ডাকত। তখন থেকেই এডমিশনের পেইজ এবং গ্রুপগুলোতে এড ছিলাম। মনের মধ্যে একটা বিষয় গেঁথে গিয়েছিল যে মেডিকেলেই পড়ব। এইচ.এস.সি দিলাম এবং কোচিং শুরু করলাম। ভালই নাম্বার পেতাম কোচিং এ। মেডিকেলের প্রিপারেশন নিলাম ৪ মাস। প্রিপারেশনও আলহামদুলিল্লাহ খারাপ ছিল না। ৭ই অক্টোবর শুক্রবার পরীক্ষা দিতে গেলাম অনেক এক্সাইটমেন্ট নিয়ে। প্রশ্ন হাতে পেলাম। দেখেই মনে হল চান্স ঠেকায় কে? দাগানো শুরু করলাম, ৮৪ টার মত দাগালাম প্রথম ২৫ মিনিটে। শেষমেশ ৯৪ টা দাগালাম। খুশি মনে বের হলাম। বাসায় এসে মিলালাম। বাজ পড়ল মাথায়। অতি উৎসাহে অনেকগুলো শিশুসুলভ ভুল করলাম। সহজ সহজ জিনিস ভুল করলাম। তারপরও আশা ছিল হয়ত লাস্ট সিটটা হলেও পাব। ৬ দিন পর ঢাবির পরীক্ষা। মেডিকেলের প্রস্তুতি দিয়ে ঢাবিতে চান্স অনেকটাই কঠিন। টেনশনে ৩ দিন কিছুই পড়া হল না।
.
সোমবার রাতে রেজাল্ট দিল। অল্পের জন্য হল না। ৪১৪৪ পজিশন আসলো। খুব ভেঙ্গে পড়লাম। নিজের এতদিনের স্বপ্ন একটা ঘন্টার বোকামিতে ধ্বংস হয়ে গেল। একদিন পড়লাম ঢাবির জন্য। পরেরদিন জাবির ডি ইউনিটের (জীববিজ্ঞান অনুষদ) পরীক্ষা। অনেক মন খারাপ নিয়ে গেলাম পরীক্ষা দিতে। ভালই দিলাম। সন্ধ্যায় ফিরে আসলাম। আবার ঢাবির জন্য পড়া শুরু করলাম। রাত ১ টায় জাবির রেজাল্ট দিল। পজিশনটা দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ১২ তম হলাম।
.
বুঝলাম জাবির বেস্ট সাব্জেক্টটাতেই পড়তে পারব। ১ দিন পর ঢাবির পরীক্ষা। কোনো প্রিপারেশন ছাড়া শুধুমাত্র ইন্টারের ব্যাসিক দিয়েই পরীক্ষা দিলাম। ১৯০৯ তম হলাম। পিউর সাবজেক্ট পাব। তারপর পড়ব না জেনেও শখের বসে ঢাবির ডি ইউনিট দিলাম। সাধারণ জ্ঞানের জোরে ৪১২ তম হলাম। আর কোথাও এক্সাম দিলাম না। এরই মাধ্যমে আমার এডমিশন সিজন শেষ হল।
.
পরিবারের ইচ্ছায় জাবির জীববিজ্ঞান অনুষদের সেরা সাবজেক্ট "ফার্মেসি"তেই ভর্তি হলাম। আল্লাহ তা'আলা কারো প্রতিই অবিচার করেন না। ডাক্তার হতে পারিনি। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় সমগ্র বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রফেশনাল ফার্মেসি কোর্সে পাবলিকে সুযোগ পাওয়া সৌভাগ্যবান ১১৪ জন (ঢাবিঃ৬০+জাবিঃ৫৪) এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারলাম। জুনিয়রদের কাছে পরামর্শ থাকবে, লেগে থাকো। নিয়মিত পড়াশুনা কর। ইনশাল্লাহ নিরাশ হবে না।
.
"Work hard and work hard. Every second will be paid"
.
©নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফার্মেসি বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।


No comments